১৯ হাজার সরকারী অফিস হবে কাগজবিহীন
২০২১ সালের মধ্যে কাগজবিহীন হবে ১৯ হাজার সরকারী অফিস। কাগজের বড় বড় ফাইলের পরিবর্তে থাকবে ‘ই-পেপার’। প্রকল্পটির দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দুই বছর আগে হাতে নেয়া এই প্রকল্পটি তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ (আইসিটি) ও এটুআই বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে ইআরডিতে ই-পেপার কার্যক্রম চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব অফিস আদালত ই-পেপার অফিসে চালু করা হবে। প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনার জন্য ই-নথি চালু করাই মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে।
একসেস টু ইনফর্মেশন প্রোগ্রাম (এটুআই) ও সারাদেশে ই-ফাইলিং নিয়ে কাজ করছে। ই-নথির মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর হবে। একটা ডাক ম্যানুয়ালি যখন এক ডেস্ক থেকে অন্য ডেস্কে যায় তখন অনেক সময় লাগে। ২০২১ সালের মধ্যে সারাদেশের সব সরকারী দফতর একটা কমন প্লাটফর্মের মাধ্যমে দাফতরিক কাজ করবে। আর এটা হবে ই-নথি। বর্তমানে সাত হাজার সরকারী অফিসে ই-নথির মাধ্যমে কাজ করেন ৮৫ হাজার কর্মকর্তা। তারা সবাই ই-নথির মাধ্যমে দাফতরিক কাজ সম্পন্ন করছেন। এতে স্বচ্ছতার মাধ্যমে সব কাজ দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
সূত্র জানিয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ই-নথিতে কাজ চলছে। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ রক্ষার্থে সব কিছুই ই-নথিতে হচ্ছে ইআরডিতে। বড় ক্যাটাগরির আটটি বিভাগের মধ্যে চলতি বছরের ই-নথি কার্যক্রমের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইআরডি। এটিসহ বর্তমানে সাত হাজার অফিস ই-নথির মাধ্যমে কাজ করছে। ইআরডির হাতে ৩ হাজার ৮৬১টি ডাক আসে। এসব ডাক স্ক্যান করে অনলাইনে নিয়ে এসে নিষ্পত্তি করা হয়। ফলে ৩ হাজার ৭১৭টি ডাক ই-নথির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেছে ইআরডি। এছাড়া এর মধ্যে স্ব-উদ্যোগে ই-নথি হয়েছে ৯৪২টি। ই-নথির মাধ্যমে ৯৩৮টি পত্র জারি করেছে ইআরডি। কাজের গতি বাড়াতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে সব হার্ড কপিও স্ক্যান করে অনলাইনে নিয়ে আসে ইআরডি। ফলে ইআরডির কোন কর্মকর্তা অফিসে না থাকলেও কাজ থেমে থাকে না। যেকোন সিদ্ধান্ত দেশের বাইরে বসেও এ্যাপস ও ইমেল ব্যবহার করে নিষ্পত্তি করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইআরডির এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ফল হচ্ছে ই-নথি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ধারাবাহিকতায় কাজ করা হচ্ছে। সাধারণ জনগণও ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পাচ্ছেন। ইআরডি অফিসের সব ডাক স্ক্যান করে অনলাইনে নিয়ে আসা হয়। পরে ই-নথির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। কোন কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ কাজে অফিসের বাইরে থাকলেও কাজ থেমে থাকে না। সব কিছুই অনলাইনে হয়ে যাচ্ছে। যেকোন অফিসিয়াল সিদ্ধান্তও ই-নথির মাধ্যমে নিয়ে হয়েছে। কয়েক বছর ধরেই ই-নথিতে কাজ চলছে। আশা করছি সরকারের ঘোষিত গোল ২০২১ সালের আগেই ইআরডি পেপারলেস হবে। অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে ইআরডির সব দাফতরিক কাজ করতে পারবে। সামনে ই-নথি কার্যক্রম আরও বাড়বে। অনলাইনে নথি আদান-প্রদান একদিকে যেমন সময় সাশ্রয়ী তেমনই লাল ফিতার কোন দৌরাত্ম্য নেই। দ্রুত সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। সরকারী কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তি করতে ই-ফাইলিংয়ের কোন বিকল্প নেই। ই-নথি বা ই-ফাইলিং ডিজিটাল বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারী কার্যক্রমকে আরও সহজতর করার একটি সফটওয়্যার সিস্টেম। এর মাধ্যমে সরকারী দফতরের সব কাজ অনলাইনভিত্তিক করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জনকণ্ঠকে জানান, ২০২০ উদ্যাপন উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচীর মধ্যেই থাকবে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ। এ জন্য শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের কয়েকটি বিভাগ পেপারলেস কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) পেপারলেস করে ডিজিটাল করার কার্যক্রম চলছে। তবে, ঠিক কতদিনের মধ্যে ডিজিটাল হবে এটা নির্ধারণ করে অন্য সরকারী প্রতিষ্ঠানকেও তা অনুসরণ করার তাগিদ দেয়া হবে। কয়েকটি দফতরে বেতন, বিল, বাজেট প্রণয়ন, চিঠিপত্র ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। ডাকের পরিবর্তে এখন অনলাইনে এসব কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়। এ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অফিসে উপস্থিত না হয়েও দাফতরিক কাজ মোবাইলের মাধ্যমে ই-নথি এ্যাপ ব্যবহার করে করা যায়। তবে এ ব্যবস্থাপনায় এখনও অনেক মন্ত্রণালয় আগ্রহী নয় আবার অনেক মন্ত্রণালয়-বিভাগে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। ইআরডিতে ব্যাপক সাড়া মিললেও অনাগ্রহী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়


No comments