নাটোরের চামড়ার আড়তগুলোতে চলছে প্রস্তুতির কাজ: ১৬ লাখ পিস পশু চামড়া কেনাবেচার আশা
রিয়াজ হোসেন লিটু, নাটোর:
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁচা চামড়ার আড়ত নাটোরের চকবৈদ্যনাথ এলাকায় অবস্থিত। সারাদেশের প্রায় ৩০/৩৫ জেলার চামড়া আসে এ আড়তে। এবার ঈদে ১৬ লাখ পিচ কোরবানির পশুর চামড়ার কেনাবেচা হবে বলে আশা করছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।
শেষ সময়ে নাটোরের চামড়ার আড়ত গুলো চলছে প্রস্তুতির কাজ। ইতোমধ্যে আড়তগুলো ধোয়ামোছা, সংস্কার ও রঙয়ের কাজ চলছে। সেই সঙ্গে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রধান উপকরণ লবণও সংরক্ষণ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, শ্রমিক সংকটে যেন না হয় সেজন্য আগে থেকে ব্যবসায়ীরা অগ্রিম টাকা দিয়ে শ্রমিক ও কর্মচারীদের ভাড়া করেছেন। বর্তমানে আড়তগুলোতে অলস সময় পাড় করছেন শ্রমিক, কুলি, ব্যাপারি ও মালিকরা।
সোমবার (২৬ জুন) সকালে নাটোর শহরের চকবৈদ্যনাথ এলাকার চামড়ার আড়তে সরেজমিন ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁচা চামড়ার আড়ত নাটোরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২শ আড়ত রয়েছে। আড়তগুলোতে রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ বগুড়া, পাবনা, রংপুর, গাইবান্ধা, ঠাঁকুরগাও, নওগাঁ, কুষ্ঠিয়াসহ সারাদেশের প্রায় ৩৫ জেলার চামড়া আসে। তারপর সেই কাঁচা চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতি বছর কোরবানি ঈদের সময় দেশের মোট ৪৫ থেকে ৫০ ভাগ চামড়া নাটোরের চামড়ার আড়ত থেকে ট্রাকযোগে ঢাকার ট্যানারিগুলোতে পাঠানো হয়।
চামড়া ব্যবসায়ী তাইজুল ইসলাম বলেন, কোরবানির চামড়া কেনার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আশা করছি, এ বছর নাটোরে প্রায় ১৪/১৫ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার চামড়া বেচাকেনা হবে। বিগত দিনের লোকসান ব্যবসায়ীরা পুষিয়ে নিতে পারবেন। বিশেষ করে চামড়ার প্রধান উৎস কাঁচা লবণের দাম অনেক বেশি। সরকার দামটা কমালে আমরা কিছুটা লাভের মুখ দেখব।
চামড়া ব্যবসায়ী মো. রকিব হোসেন বলেন, কোরবানির ঈদের জন্য আমরা ব্যবসায়ীরা আড়ত প্রস্তুত করেছি। আশা করছি, এ বছর চামড়ার ব্যবসা ভালো হবে। সেই সঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বৃহত্তর নাটোরের আড়তে কাঁচা চামড়া আসবে। প্রত্যক আড়তগুলোতে চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রস্তুত করছেন ব্যবসায়ীরা।
চামড়া ব্যবসায়ী মো. নাসিম খান বলেন, ঢাকার বাহিরে সবচেয়ে বড় কাঁচা চামড়ার মার্কেট হচ্ছে নাটোর। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা আড়ত ধোয়া-মোছার কাজ করছে। নতুন করে আড়ত সংস্কার, রঙয়ের কাজে ব্যস্ত সবাই। আমরা আর্থিকভাবেও প্রস্তুত রয়েছি। আশা করছি, এ বছর চামড়ার বেচাকেনা জমজমাট হবে।
চামড়া ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সরকার বলেন, চামড়ার প্রধান উপকরণ হচ্ছে লবণ। কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রতি চামড়ায় ৪ থেকে ৫ কেজি লবণের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে লবণের দাম বস্তা প্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণে এবার চামড়ার খরচটা কিছুটা বাড়বে। যদি সরকার ভর্তুকি মূল্যে ব্যবসায়ীদের লবণ দেয় তাহলে আমরা উপকৃত হতাম।
চামড়া ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, আমরা চামড়া কেনার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। ঈদের দিন বিকেল থেকে আড়তে চামড়া আসা শুরু হবে। এজন্য লবণ, শ্রমিক ও কর্মচারী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাতে চামড়া আসার সঙ্গে সঙ্গে চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। চামড়া যেন নষ্ট বা পচে না যায় সে দিকে নজর রয়েছে আমাদের।
চামড়া ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন বলেন, দীর্ঘ অনেক বছর থেকে চামড়া ব্যবসার সঙ্গে রয়েছেন। এক সময় চামড়া ব্যবসা করে অনেক ব্যবসায়ী লাভবান হয়েছেন। বর্তমানে কয়েক বছর ধরে চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় আগের মতো ব্যবসা নেই। বর্তমানে শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন বাড়ার কারণে চামড়ার ব্যবসায় লাভ কমে গেছে।
নাটোর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ীরা কোরবানির চামড়া কেনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এ বছর জেলায় প্রায় ১৬ লাখ পিস কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া বিক্রি হবে। প্রায় শত কোটি টাকার চামড়া বেচাকেনা হবে আশা করছি। যাতে চামড়া নষ্ট বা পচে না যায় সেদিকে নজর দিতে ব্যবসায়ীদদের বলা হয়েছে। চামড়া আড়তে আসার সঙ্গে সঙ্গে চামড়াতে লবণ দিয়ে যেন সংরক্ষণ করা হয়। আশা করছি, ব্যবসায়ীরা তাদের ন্যায্য দাম পাবে।



No comments