কলেজ ছাত্র খুনের ঘটনায় ৯ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

 কলেজ ছাত্র খুনের ঘটনায় ৯ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

উত্তরা পূর্ব থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ। ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরার আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে কলেজ ছাত্র জিসান হাবিব হত্যা মামলার ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তারা হলেন- সুন্দরী সুমন, স্বপন, বিপ্লব, তৈয়ব আলী ওরফে উজ্জল ওরফে তবলা ওরফে বাবলা, জাহাঙ্গীর ব্যাপারী ওরফে হৃদয়, তানভীর রহমান নেহাল, জিহাদ, নূরুল ইসলাম রাব্বি ও রাকিব। গতকাল দুপুরে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের ডিসি মো. শহিদুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

উত্তরা পূর্ব থানায় এ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জিসান নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। গত ২৮ নভেম্বর জিসান নোয়াখালী থেকে ধামরাইয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ৯ ডিসেম্বর জিসান এক আত্মীয়কে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে যান। সেখান থেকে রুহুল আমিন নামের এক আত্মীয়ের সঙ্গে ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাস যোগে নবীনগর ফিরছিলেন। তাদের বহনকৃত বাসটি আবদুল্লাহপুর এলাকায় আসলে জানালা দিয়ে এক ছিনতাইকারী জিসানের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

দ্রুত বাস থেকে নেমে দৌঁড়ে ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলেন। রুহুলও বাস থেকে নেমে সেখানে যান। এরপর তারা দু’জন ছিনতাইকারীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করতে গেলে পেছন থেকে অপর দু’জন ছিনতাইকারী এসে জিসান ও রুহুলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। তাদেরকে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। পরে আহত জিসান ও রুহুলকে চিকিৎসার জন্য শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জিসানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলাহয়।

ডিসি শহিদুল্লাহ বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গত ১২ ডিসেম্বর উত্তরা ও টঙ্গী এলাকা থেকে সুন্দরী সুমন ও স্বপনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এরপর নরসিংদীর রায়পুরা থানার বাঘাইকান্দী চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিপ্লব ও তৈয়বকে গ্রেফতার করা হয়। অব্যাহত অভিযানে উত্তরা ও টঙ্গী এলাকা থেকে জড়িত জাহাঙ্গীর ব্যাপারী, তানভীর রহমান নেহাল, জিহাদ, নূরুল ইসলাম রাব্বি ও রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরাসহ পলাতক অভিযুক্ত কবির ও নাতি সোহাগ আব্দুল্লাহপুরসহ উত্তরা এলাকায় ছিনতাই করে। ঘটনার দিন জিসানের মোবাইল ছিনতাই করে পালানোর সময় জিসান ও রুহুল বাস থেকে নেমে ছিনতাইকারী হৃদয়কে ধরে ফেললে দলের গ্রেফতারকৃত অন্য সদস্যরা হৃদয়কে ছাড়ানোর জন্য আসে। এ সময় ছিনতাইকারীরা এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে জিসান ও রুহুলকে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা একত্রে টঙ্গী ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ছিনতাই করে। দলের একটি গ্রুপ বিভিন্ন স্থানে পাহারা দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন সদস্যরা আশপাশে আসছে কিনা। গ্রুপের কোন একজন ধরা পড়লে গ্রুপের অন্য ৩/৪ জন সদস্য মুরুব্বী সেজে ঘটনাস্থলে আসে এবং ‘কি হয়েছে, কি হয়ে ভাই’ ইত্যাদি কথা বলে আটক ছিনতাইকারীকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। জড়িত ছিনতাইকারী চক্রটির প্রায় সকল সদস্যের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় চুরি, মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পলাতক অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।

No comments

Powered by Blogger.